দুর্বল হলেও আদবে এগিয়ে যায় বহু দূর,
আর মেধাবী হয়েও বেয়াদবির কারণে পিছিয়ে যায় বহু দূর।
— পীর সাহেব ছারছীনা শরীফ।
আদব ও শিষ্টাচার এমন এক মহামূল্যবান সম্পদ, যা সাধারণ মানুষকেও পৌঁছে দেয় সম্মানের সর্বোচ্চ চূড়ায়। অন্যদিকে অহংকার ও বেয়াদবি এমন এক ধ্বংসাত্মক ব্যাধি, যা মহাপণ্ডিত বা চরম মেধাবী ব্যক্তিকেও টেনে নামায় তলানিতে। ছারছীনা দরবার শরীফের পীর সাহেব হুজুরের এই কালজয়ী বাণীটি মূলত কুরআন ও সুন্নাহর এক শাশ্বত সত্যেরই প্রতিধ্বনি।
ইসলামে মেধার চেয়ে চরিত্রের গুরুত্ব বহু গুণে বেশি। ইতিহাস সাক্ষী, কেবল মেধা মানুষকে চিরস্মরণীয় করতে পারে না, যদি না তার সাথে যুক্ত হয় নম্রতা ও আদব।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত বা নম্র হয়, আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদাকে উন্নত করেন।" (সহিহ মুসলিম)
যে মানুষটি হয়তো দুনিয়ার বিচারে কিছুটা দুর্বল বা মেধায় পিছিয়ে, কিন্তু তার অন্তরে যদি আল্লাহর ভয় ও বিনয় থাকে, আল্লাহ নিজ দায়িত্বে তাকে বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যান।
ইবলিস বা শয়তান কিন্তু মূর্খ ছিল না; সে ছিল চরম জ্ঞানী ও আবেদ। কিন্তু তার মেধা ও ইবাদত তাকে বাঁচাতে পারেনি কেবল একটিমাত্র অপরাধের কারণে—তা হলো বেয়াদবি ও অহংকার। মেধা যদি মানুষকে অহংকারী করে তোলে, তবে সেই মেধা রহমত নয়, বরং অভিশাপ।
কিয়ামতের কঠিন ময়দানে মানুষের মেধার পরিমাপ করা হবে না, পরিমাপ করা হবে তার চরিত্রের। মহানবী সাঃ বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মুমিনের দাঁড়িপাল্লায় সবচেয়ে ভারী যে বস্তুটি রাখা হবে, তা হলো উত্তম চরিত্র।" (জামে আত-তিরমিজি)
আমাদের পথচলায় জ্ঞান অর্জন করা জরুরি, কিন্তু তার চেয়েও বেশি জরুরি সেই জ্ঞানকে আদবের অলঙ্কারে ভূষিত করা। বিনয়ী মানুষটি ধীরে চললেও গন্তব্যে পৌঁছাবেই, কিন্তু বেয়াদব মানুষটি যত দ্রুতই দৌড়াক না কেন—তার পতন সুনিশ্চিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জ্ঞান ও মেধার সাথে সাথে খাঁটি আদব ও উত্তম চরিত্রের তৌফিক দান করুন। আমিন।
📝কাওসার আহমদ
মদনা, চাঁদপুর সদর।


0 Comments