তরীকা ও তাসাউফ—এটা দাবি করার বিষয় নয়; বরং ধারণ করার বিষয়।
❏ যার এ‘তেকাদ যত মজবুত, তরিকার নেয়ামতও তিনি তত গভীরভাবে লাভ করেন। এ পথের মূল সূত্র যেন একটাই—হক মাসলাকের তরিকার মাশায়েখ ও মুরুব্বীদের প্রতি অগাধ এ‘তেকাদ, মহব্বত ও আস্থা।
এই লাইনের নেয়ামত মূলত এভাবেই আসে। এটা বিশ্বাসের খেলা, প্রেমের খেলা। বান্দা যখন এই মহব্বতে সত্যিকার অর্থে হাবুডুবু খেতে থাকে, তখন রব্বুল আলামীন তার জন্য রহমত ও নেয়ামতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। ফলে যে ছিল শূন্য, সে-ই ধীরে ধীরে পূর্ণতার পথে এগিয়ে যায়। এটা ঠিক সিদ্দিকে আকবর আবু বকর রা. পেয়েছিলেন রসুলুল্লাহ ﷺ এর থেকে। যে ধারা আজ পর্যন্ত চলমান একই সূত্রে।
❏ কিন্তু এই নেয়ামত সবাই ধারণ করতে পারে না; সবাই ধরে রাখতেও পারে না। কারণ, সূত্র সেই একটাই—মুরুব্বীদের প্রতি এ‘তেকাদ।
এ‘তেকাদে যখন ফাটল ধরে, তখন মানুষ ধীরে ধীরে দিকভ্রান্ত হয়ে যায়। দুনিয়ার চাকচিক্য ও লোভনীয় মরীচিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে তরিকার নেয়ামত থেকে মাহরুম হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সে বাতিল চিন্তা ও ভ্রান্ত মতাদর্শের প্রভাবাধীন হয়ে যেতে পারে। তার অনুসারীরাও তখন তার সঙ্গে হিদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
❏ সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—লোভ, আত্মপ্রবঞ্চনা ও নফসের প্ররোচনায় এই পদস্খলন অনেক সময় তার নিজের কাছেই ধরা পড়ে না। সে মনে করতে থাকে, সে ঠিক পথেই আছে; অথচ অজান্তেই সে নেয়ামত থেকে দূরে সরে যেতে থাকে।
❏ কখনো কখনো শুভাকাঙ্ক্ষীদের সৎ পরামর্শ কিংবা মুরুব্বীদের সংশোধনমূলক শাসনও তার কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে। নসিহত তখন আর নসিহত মনে হয় না; বরং তার কাছে তা বিরোধিতা বলে প্রতীয়মান হয়। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, অন্তরের অসুস্থতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا
“তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে; অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।” —সূরা আল-বাকারা, ২:১০
❏ অতঃপর সে নিজের মত ও প্রবৃত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মানুষ ও মতাদর্শের সন্ধান করতে থাকে। যে নসিহত একসময় তাকে সংশোধনের পথে ফিরিয়ে আনতে পারত, সেটাকেই সে প্রত্যাখ্যান করে; আর নিজের প্রবৃত্তির পক্ষে কথা বলে—এমন সঙ্গী খুঁজে নেয়।
❏ এভাবেই ধীরে ধীরে মানুষ সত্যের সঙ্গ থেকে দূরে সরে যায় এবং নিজের ভ্রান্তির চারপাশে একটি নতুন বলয় তৈরি করে ফেলে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো
এমন ভ্রষ্টতার পথ থেকে ফিরে এসে, নিজের ভুল স্বীকার করে, অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে পুনরায় হকের পথে ফিরে আসতে পারে—ক'জন?
✍️ মুহাম্মাদ গোলাম রাব্বি


0 Comments